এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুরে হরিহর নদটি ফিরে পেয়েছে হারানো যৌবন। স্বাভাবিক জোয়ার
ভাঁটা শুরু হওয়ায় এলাকার মানুষের মনে নতুন করে আশা জেগেছে। গত কয়েক বছর নদটি
পলিতে ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্থ হয়ে উপচে পড়ে কেশবপুর ও মণিরামপুরের
কয়েকটি ইউনিয়ন জলাবদ্ধতার শিকার হতো। এ বছর নদটি পুনঃখনন হওয়ায় এলাকায়
জলাবদ্ধতা না থাকায় সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যে কারণে নদ পাড়ে কৃষক সহজে আবাদ
করতে পারবে বলে আশা জেগেছে।
এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নদটি কেশবপুরের বড়েঙ্গা
ত্রিমোহনা থেকে আপারভদ্রা নদী হতে উৎপত্তি হয়ে কেশবপুর ও মণিরামপুরের ভিতর দিয়ে
চৌগাছায় গিয়ে মিশেছে। নদটির দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার। নদটি পলিতে ভরাট হওয়ায়
স্বাভাবিক জোয়ার ভাঁটায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। যে কারণে পানি উপচে বর্ষা মৌসুমে
এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হত। কৃষকরা ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হতেন। এখন স্বাভাবিক
জোয়ার ভাঁটা ফিরে আসায় নদটি যেমন হারানো যৌবন ফিরে পেয়েছে। তেমনি
কৃষকদের মনেও নতুন করে ফসল উৎপাদনে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
নদটিতে স্বাভাবিক জোয়ার ভাঁটা না থাকায় কেশবপুরের মঙ্গলকোট, পাঁজিয়া,
পৌরসভা, কেশবপুর ইউনিয়ন এবং মণিরামপুরের চালুয়াহাটি মনোহরপুর দুর্বাডাঙ্গা ও
শ্যামকুড় ইউনিয়নে ব্যাপক জলবদ্ধতা দেখা দিতো। মানুষ ফসল উৎপাদনে ব্যর্থ হয়ে
দিশেহারা হয়ে পড়তেন। নদে জোয়ার ভাটা ফিরে আসায় সকাল বিকেল এলাকার মানুষ তা
দেখার জন্য নদ পাড়ে ভীড় করছে।
সরেজমিন নদে মধ্যকুল এলাকায় গিয়ে কথা হয় কৃষক আয়ুব খানের সঙ্গে, তিনি বলেন
বিগত ৭-৮ বছর জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা মৌসুমে ফসল উৎপাদন করতে পারিনি। এ বছর
নদটি পুনঃখনন হওয়ায় স্বাভাবিক জোয়ার ভাঁটায় এলাকার পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। ধারণা
করা হচ্ছে এভাবে নদে জোয়ার ভাঁটা চললে জলাবদ্ধতা থাকবে না। যে-কারণে আশা
জেগেছে এবার সহজেই কৃষি ক্ষেতে ফসল আবাদ করতে পারবো। একই রকম আশার কথা
জানালেন কেশবপুর সদর ইউনিয়নের ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কামরুলজামান।
শুক্রবার নদটির কেশবপুর শহরের শ্রীগঞ্জ ব্রিজের উপর গিয়ে দেখা যায় জোয়ারের পানিতে
নদটির দুকুল ভরে উঠেছে। প্রবল জোয়ারের স্রোতের গতি। এমন দৃশ্য দেখার জন্য এলাকার
মানুষ নদ পাড়ে উপস্থিত হয়ে নদটির ফিরে আসা স্বাভাবিক যৌবনের দৃশ্য অবলোকন
করছেন। এ সময় বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শওকত হোসেন বলেন, দীর্ঘ ৪-৫ বছর পর
নদটিতে স্বাভাবিক জোয়ার ভাঁটা দেখে খুবই ভালো লাগছে।
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক বাবুর আলী গোলদার বলেন, এলাকার নদ নদী
পুনখনন হওয়ায় জলাবদ্ধতা নিরোশনের সম্ভাবনা জেগেছে। এলাকার কৃষকের মাঝে ফসল
উৎপাদনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তবে আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগে
ভবদহ অঞ্চলের যেকোন একটি বিলে টিআরএম (জোয়ার আধার) চালু করা গেলে এলাকার
জলাবদ্ধতা নিরোশনে আরো সহায়ক হবে। সে ক্ষেত্রে এলাকার কৃষক দীর্ঘ মেয়াদি এর
সুফল ভোগ করতে পারবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন বলেন, নদটি পুনঃখনন
হওয়ায় স্বাভাবিক জোয়ার ভাঁটা চলছে। নদের সাথে সংযুক্ত কয়েকটি খাল খনন হওয়ায়
এলাকার পানি দ্রুত গতিতে নদে এসে পড়ছে। তাতেও নদে স্রোতের গতি বৃদ্ধি
পেয়েছে। এলাকার কৃষক এবার সহজে ফসল উৎপাদন করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
www.magpienews24.com Bangla News, Letest News, Jessore News