টাইম বোমা নিষক্রিয়, নিরাপত্তা জোরদার, শেষ দিনে উৎসবে ভক্ত-অনুরাগীদের উপস্থিতি
ছেঁউড়িয়ায় আখড়া থেকে ফিরে ডি এইচ দিলসান : কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউলস¤্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে টাইম বোমাসদৃশ বস্তু ও দুই লিটার পেট্রোল উদ্ধারের ঘটনায় তাৎক্ষণিক কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও অনুষ্ঠানের শেষ দিনে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। শেষ দিনেও সাধু ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে লালনের আখড়াবাড়ি। গত ১৮ই অক্টোবার রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউলস¤্রাট ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে টাইম বোমাসদৃশ একটি বিস্ফোরক ও পেট্রোল বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও স্মরণোৎসবের শেষ দিনে ভক্ত-অনুরাগী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিনভর আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে মানুষের পদচারণা অব্যাহত থাকে। বোমা উদ্ধারের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করে। যদিও বোমা আতঙ্কে সোমবার ভোর রাত থেকে অনেক ভক্তরা মেলা প্রাঙ্গন ত্যাগ করে। সরজমিনে দেখা গেছে প্রশাসনের কর্তারাও নিরাপত্তা জনিত কারনে অনেক ভক্তদের মাজার প্রাঙ্গন ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
সরজমিনে দেখা গেছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আখড়াবাড়ির ভেতরে মূল ফটক পার হয়ে ডান পাশে একটি নারকেলগাছের নিচে পুলিশ বক্সের কাছাকাছি সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান এক লালনভক্ত। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আখড়াবাড়ি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে অবস্থানরত সাধু-ফকিরদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সোমবার সকালে ঢাকা থেকে পুলিশের বোমা নিষক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহজনক বস্তু পরীক্ষা করে। পরে সেখান থেকে একটি টাইম বোমা ও দুটি বোতলে রাখা প্রায় দুই লিটার পেট্রল উদ্ধার করা হয়। বোমাটি নিষক্রয় করার পর আখড়াবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।
ঢাকা থেকে আসা লালনভক্ত রিতমা বলেন, “প্রতিবছর লালন সাঁইজির তিরোধান দিবসে আমরা কয়েকজন মিলে আখড়াবাড়িতে আসি। তিন দিনের অনুষ্ঠান উপভোগ করি। তবে উৎসবের শেষ দিনে বোমা আতঙ্কের খবর শুনে সবাই উদ্বিগ্ন।”
যশোর থেকে আসা কলেজশিক্ষার্থী সোনালী দে পিউ ও রুদ্র দে বলেন, “লালন সাঁইজির অনুষ্ঠান দেখতে এবারই প্রথম আখড়াবাড়িতে এসেছি। এত মানুষের সমাগম দেখে খুব ভালো লাগছে। তবে বোমা আতঙ্কে সব আনন্দ মাটি প্রায়”
কুষ্টিয়া পুলিশের সদস্য মেলা প্রাঙ্গনে ডিউটিরত আরিফ হোসেন বলেন, বোমা উদ্ধারের ঘটনা শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি। আগের দুই দিনের মতো শেষ দিনেও লালন অনুসারীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। তাঁর মতে, এই ঘটনার পেছনে উৎসবকে বিতর্কিত বা বিঘিœত করার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আখড়াবাড়িতে প্রবেশের বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে তল্লাশির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েনের কথাও জানান তিনি।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘রাতে কুমারখালী থানার ওসি জানতে পারেন আখড়াবাড়ির ভেতর বোমা আছে। এরপর সেটি কর্ডন করে রাখা হয়। এটা টাইম বোমা ছিল। যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। সকালে বোমা নিক্রয়কারী দল এসে সেটা নিষ্ক্রিয় করেছে। আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুরো আখড়াবাড়ি তল্লাশি চালানো হয়েছে।’
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। হয়তো কেউ আতঙ্ক ছড়াতে এমনটি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, আখড়াবাড়ির আঙিনায় বোমা রেখে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যারা এসব বস্তু সেখানে রেখেছে, তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
www.magpienews24.com Bangla News, Letest News, Jessore News