নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকাতে জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে জাতীয়ভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। সংগঠনটি ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত সবাইকে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকার আওতায় আনা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ডেঙ্গু রোগীদের মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সরকারের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটি। এতে হাম ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় স্বাস্থ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কমিটি গঠন এবং সরকার ও জনগণকে সম্পৃক্ত করে সর্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, হাম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসার কার্যকর পদ্ধতি জানা থাকা সত্ত্বেও দেশে এ দুই রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। হামের টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্বর্তী সরকারের গড়িমসি ও যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়াকে বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অভিযোগ, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাস পরও হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। হামের টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ভুলভাবে নির্ধারণ করে শতভাগের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে বলে সরকার আত্মতুষ্টিতে ছিল বলেও দাবি করেছে তারা। ভুল স্বীকারের পরও টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের দ্রুত টিকাদান এবং ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত সবাইকে টিকার আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটি আরও বলেছে, চিকিৎসাসেবার অতিরিক্ত কেন্দ্রীয়করণের কারণে হামে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের একটি বড় অংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকায় আসতে বাধ্য হচ্ছে। এতে রাজধানীর সীমিত জরুরি ও নিবিড় চিকিৎসাসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে অনেক মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে দাবি করেছে তারা।
দরিদ্র এলাকায় বাড়ি বাড়ি ডেঙ্গু পরীক্ষা
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। সংগঠনটির ভাষ্য, বিশেষজ্ঞ ও সরকারের মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে আগাম সতর্কতা থাকার পরও ডেঙ্গু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
ডেঙ্গু শনাক্তকরণে বস্তি ও নিম্নআয়ের মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে আক্রান্তরা সময়মতো সতর্কতা ও চিকিৎসা নিতে পারবেন এবং জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, কিডনি রোগ ও ডায়ালাইসিসে থাকা রোগীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তাদের মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রাখার দাবি জানিয়েছে তারা।
বছরব্যাপী মশা নিয়ন্ত্রণের দাবি
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে ‘প্রচারসর্বস্ব’ না করে দীর্ঘমেয়াদি ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে বছরব্যাপী পরিচালনার দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সারাদেশে ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে মোট ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা, ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত সবাইকে হামের টিকার আওতায় আনা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এলাকায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের মাধ্যমিক হাসপাতালে চিকিৎসা, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা-পরীক্ষা-ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান এবং বছরব্যাপী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ অভিযান।
একই সঙ্গে হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সারাদেশের নেতা-কর্মীদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির পক্ষে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ও যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, আরসিএলবির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মাহবুব)-এর সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভুঁইয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক রজত হুদা এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।
www.magpienews24.com Bangla News, Letest News, Jessore News