নিজস্ব প্রতিবেদক
বেনাপোল- যশোর-ঢাকা দর্শনা-কোটচাঁদপুর- ঢাকা রুটে রেলযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সকালে প্রভাতী ট্রেন চালুর দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছে যশোরবাসী। মঙ্গলবার যশোর কালেক্টরেট চত্বরে ‘বৃহত্তর যশোর রেলযোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’র উদ্যোগে প্রতীকী রেল অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
কর্মসূচি থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে দাবি আদায় না হলে প্রতীকী কর্মসূচি ছেড়ে যশোর জংশন পুরোপুরি অবরোধ করে রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, রেল আন্দোলনের নেতা অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, আমিনুর রহমান হিরু, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন,তসলিম-উর রহমান,সিপিবির যশোর জেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, কোটচাঁদপুরের প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম, পূজা উদযাপন পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, আহসান উল্লাহ ময়না, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, মনিরুজ্জামান, সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ড।
এছাড়া সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, কমিটির যুগ্ম আহবায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব, বিবর্তনের সভাপতি নওরোজ আলম খান চপল, সাংস্কৃতিক জন সানোয়ার আলম দুলু ও রিয়াদ রহমান প্রমুখ।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ চালুর পর বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুটে বিকেলে ট্রেন চলাচল করায় যাত্রীরা রাজধানীতে গিয়ে দাপ্তরিক বা জরুরি কাজ শেষ করে একই দিনে ফিরতে পারছেন না। তাই ভোরবেলা যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি ‘প্রভাতি ট্রেন’ এবং সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ফিরতি ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। বেনাপোল, যশোর, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করায় রেলে ট্রিপ বাড়ালে সরকার আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের সুযোগ পাবে।
সংগ্রাম কমিটির ৬ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা। সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে সব আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ বগি যুক্ত করা। দর্শনা-খুলনা রুট এবং বেনাপোল-যশোর রুটে দ্রুত ডাবল রেললাইন স্থাপন করা। ট্রেনের সাধারণ শ্রেণির ভাড়া বাসভাড়ার চেয়ে কম রাখা। অনলাইন নিবন্ধনের বাইরে সহজ উপায়ে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিকল্প টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। আন্তঃনগর ট্রেনে কৃষিপণ্য, ফুল, সবজি ও মাছ পরিবহনের জন্য বিশেষ বগি সংযোজন করা।
প্রতীকী অবরোধ ও সমাবেশ শেষে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসানের নিকট রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
www.magpienews24.com Bangla News, Letest News, Jessore News