মণ্ডপে মণ্ডপে বিসর্জনের সুর, রঙিন মুখে দেবী বিদায়ের প্রস্তুতি


ডি এইচ দিলসান : মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে বিদায়ের সুর। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। রঙিন সাজে সজ্জিত মণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে একদিকে উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর বিষাদমাখা আবহ। যশোরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এখন চলছে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি

দুর্গাপূজাকে ঘিরে কয়েক দিন ধরে যশোরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ছিল ভক্ত-দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। আলোকসজ্জা, বর্ণিল সাজসজ্জা, ঢাকের বাদ্য আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর ছিল পূজামণ্ডপগুলো। উৎসবের দিনগুলোতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করেছেন নানা বয়সী মানুষ।

এখন সেই উৎসবের রেশ কাটিয়ে শুরু হয়েছে বিদায়ের পালা। দেবী দুর্গার চরণে শেষবারের মতো প্রণাম জানিয়ে ভক্তরা কামনা করছেন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল। কারও চোখে তৃপ্তির হাসি, কারও মনে প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর কষ্ট। আনন্দ আর বিষাদের মিশেলে পূজামণ্ডপগুলোতে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সদস্য ও আয়োজকেরা প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিসর্জনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গার আগমন অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে আসে। তাই বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় আবারও ফিরে আসার প্রার্থনা—‘আসছে বছর আবার হবে।’

যশোরের মণ্ডপগুলোতে তাই এখন একটাই অনুভূতি—উৎসব শেষ হলেও থেকে যাবে স্মৃতি, প্রার্থনা আর আগামী বছরের অপেক্ষা। ঢাকের শেষ বোল আর বিসর্জনের স্রোতে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা; রেখে যাবেন সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও মিলনের প্রত্যাশা।

About Magpie News

Check Also

লালন শাহের মাজারের ভেতর থেকে পেট্রোল ও টাইম বোমা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজারের ভিতরে মূল ফটকের পাশ …