Breaking News

যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র: কাওসার আলী ও খন্দকার রকিবুল ইসলাম


ফুটবল ও হকির জাতীয় অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং খেলোয়াড় তৈরিতে অবদান দুই কৃতী সন্তানকে নিয়ে বিশেষ ফিচার

ডি এইচ দিলসান :
জাতীয় ফুটবল ও হকিতে প্রতিনিধিত্ব, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা বহন এবং ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখা যশোরের দুই কৃতী সন্তান।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যশোরের অবদান অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ফুটবল ও হকির মাঠে এ জেলার অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দুই ব্যক্তিত্ব হলেন সাবেক জাতীয় ফুটবল ও হকি খেলোয়াড় এবং বিকেএসপির হকি বিভাগের সাবেক প্রধান কোচ কাওসার আলী এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক জাতীয় ফুটবলার খন্দকার রকিবুল ইসলাম।
একজন একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন খেলায় বাংলাদেশের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অন্যজন বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় দলের নেতৃত্ব ও সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের জীবন ও ক্রীড়াকীর্তি শুধু যশোর নয়, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেরও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
কাওসার আলী: ফুটবল ও হকির জাতীয় তারকা, খেলোয়াড় গড়ার কারিগর
যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম পরিচিত মুখ কাওসার আলী। তিনি এমন একজন ক্রীড়াবিদ, যাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের বিশেষত্ব হলো বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল ও জাতীয় হকি, উভয় দলেই প্রতিনিধিত্ব করার বিরল কৃতিত্ব।
খেলোয়াড়ি জীবনের সূচনা
১৯৫৮ সালের ২০ নভেম্বর যশোরে জন্মগওহণ করেন কাওসার আলী। পড়াশোনা করেছেন যশোর জিলা স্কুলে। ১৯৭৪ সালে যশোর জেলা দলের হয়ে ফুটবল ও হকিতে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের যাত্রা শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওয়ারী ক্লাবে যোগ দিয়ে দুই খেলাতেই নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন। ফুটবলে তিনি ছিলেন দক্ষ মিডফিল্ডার এবং হকিতে খেলতেন ফরোয়ার্ড বা রাইট উইং পজিশনে।
জাতীয় ফুটবল দলে কাওসার আলী
১৯৭৫ সালে ওয়ারী ক্লাবের হয়ে ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে খেলতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও বিজেএমসির মতো প্রতিষ্ঠিত দলে খেলেছেন।
১৯৭৮ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৮০ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপের মূল পর্বেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ইরানের বিপক্ষে ম্যাচেও মাঠে নামেন।
১৯৭৯ সালে বিজেএমসির প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যশোর জেলা দলের হয়ে ১৯৭৬ সালে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শেরেবাংলা কাপ জয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
জাতীয় হকি দলে প্রতিনিধিত্ব
ফুটবলের পাশাপাশি হকিতেও তাঁর সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্টের হকি সিরিজে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলেন।
ওয়ারী ক্লাব, সোনালী ব্যাংক ও সাধারণ বীমার হয়ে খেলেছেন। ১৯৮২ সালে যশোর জেলা দলের হয়ে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।
বিকেএসপিতে ৩১ বছরের গৌরবময় অধ্যায়
কাওসার আলীর জীবনের সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রে। ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে বিকেএসপিতে হকি কোচ হিসেবে দায়িত্ব শুরু করে দীর্ঘ ৩১ বছর সেখানে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে বিকেএসপির হকি বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে অবসরে যান।
তাঁর হাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসেছেন অসংখ্য হকি খেলোয়াড়। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন আমার হাতে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত প্রায় ১২০ জন খেলোয়াড় বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলেছেন। এদের মধ্যে তারকা রাসেল মাহমুদ জিমি ও রাসেল খান বাপ্পিসহ আরো ানেকে আছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোচিং সাফল্য
২০০৫ সালে তাঁর প্রশিক্ষণাধীন বিকেএসপি জুনিয়র হকি দল ভারতের নেহরু কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, আবাহনী, মোহামেডান ও আজাদ স্পোর্টিংয়ের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মিয়ানমার অনূর্ধ্ব-২১ জাতীয় হকি দলের কোচ ছিলেন। বাংলাদেশ যুব হকি দলের কোচ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করেছেন। ২০১৪ সালের সামার ইয়ুথ অলিম্পিকে বাংলাদেশের যুব হকি দলের যোগ্যতা অর্জনের পেছনে তাঁর প্রশিক্ষণ ও অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন এবং এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাওসার আলীর বিশেষত্ব হলো, তিনি শুধু নিজে জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরির একটি শক্তিশালী ভিত্তিও গড়ে দিয়েছেন।
খন্দকার রকিবুল ইসলাম:
জাতীয় ফুটবলের সাবেক সহ-অধিনায়ক, রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃতী ফুটবলার
খন্দকার রকিবুল ইসলাম বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সত্তর ও আশির দশকের অন্যতম পরিচিত ডিফেন্ডার। যশোরের এই কৃতী ফুটবলার জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং একপর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
জন্ম ও ফুটবলে পথচলা
১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি যশোরে জন্মগ্রহণ করেন খন্দকার রকিবুল ইসলাম। ফুটবলে তাঁর অবস্থান ছিল লেফট ব্যাক বা বাম পার্শ্বের রক্ষণভাগে।
১৯৭৩ সালে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগ ফুটবলে অভিষেক ঘটে তাঁর। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের দক্ষতা, রক্ষণভাগ সামলানোর ক্ষমতা ও মাঠের উপস্থিতির কারণে পরিচিতি লাভ করেন।
মোহামেডান ও আবাহনীতে সাফল্য
খন্দকার রকিবুল ইসলামের সাথে একান্ত কথাপোকথনে উঠে আসে, তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের শিরোপা জেতেন। ১৯৭৭ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে আগা খান গোল্ডকাপে মোহামেডানের অধিনায়কত্ব করেন।
১৯৭৮ সালে যোগ দেন দেশের আরেক ঐতিহ্যবাহী দল আবাহনী ক্রীড়াচক্রে। ১৯৭৯ সালের আগা খান গোল্ডকাপে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
পরবর্তী সময়ে বিজেএমসি ও রহমতগঞ্জের হয়েও খেলেছেন। ১৯৯০ সালে বিজেএমসির হয়ে খেলার মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে প্রতিনিধিত্ব
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে এএফসি যুব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। ১৯৭৬ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত কিংস কাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ১৯৭৮ সালের এশিয়ান গেমসের জন্য জাতীয় দলের পরিকল্পনায় ছিলেন। ১৯৭৯ সালে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।
১৯৮০ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার ২০১৬
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ফুটবলারদের তালিকায় ২০১৬ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর নাম রয়েছে। ২০২২ সালের ১১ মে তিনি এ পদক গ্রহন করেন। এটি তাঁর দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বলে দাবি করেন তিনি।
ফুটবল-পরবর্তী জীবন
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছেন খন্দকার রকিবুল ইসলাম। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উন্নয়ন কমিটির সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার খুঁজে বের করার কার্যক্রম এবং বাফুফে এলিট ফুটবল একাডেমির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
তাঁর জীবন থেকে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য শেখার বিষয় হলো দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, দলীয় দায়িত্ববোধ এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা একজন খেলোয়াড়কে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র: কাওসার আলী ও খন্দকার রকিবুল ইসলাম
ফুটবল ও হকির জাতীয় অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং খেলোয়াড় তৈরিতে অবদান দুই কৃতী সন্তানকে নিয়ে বিশেষ ফিচার

ডি এইচ দিলসান :
জাতীয় ফুটবল ও হকিতে প্রতিনিধিত্ব, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা বহন এবং ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখা যশোরের দুই কৃতী সন্তান।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যশোরের অবদান অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ফুটবল ও হকির মাঠে এ জেলার অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দুই ব্যক্তিত্ব হলেন সাবেক জাতীয় ফুটবল ও হকি খেলোয়াড় এবং বিকেএসপির হকি বিভাগের সাবেক প্রধান কোচ কাওসার আলী এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক জাতীয় ফুটবলার খন্দকার রকিবুল ইসলাম।
একজন একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন খেলায় বাংলাদেশের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অন্যজন বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় দলের নেতৃত্ব ও সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের জীবন ও ক্রীড়াকীর্তি শুধু যশোর নয়, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেরও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
কাওসার আলী: ফুটবল ও হকির জাতীয় তারকা, খেলোয়াড় গড়ার কারিগর
যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম পরিচিত মুখ কাওসার আলী। তিনি এমন একজন ক্রীড়াবিদ, যাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের বিশেষত্ব হলো বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল ও জাতীয় হকি, উভয় দলেই প্রতিনিধিত্ব করার বিরল কৃতিত্ব।
খেলোয়াড়ি জীবনের সূচনা
১৯৫৮ সালের ২০ নভেম্বর যশোরে জন্মগওহণ করেন কাওসার আলী। পড়াশোনা করেছেন যশোর জিলা স্কুলে। ১৯৭৪ সালে যশোর জেলা দলের হয়ে ফুটবল ও হকিতে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের যাত্রা শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওয়ারী ক্লাবে যোগ দিয়ে দুই খেলাতেই নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন। ফুটবলে তিনি ছিলেন দক্ষ মিডফিল্ডার এবং হকিতে খেলতেন ফরোয়ার্ড বা রাইট উইং পজিশনে।
জাতীয় ফুটবল দলে কাওসার আলী
১৯৭৫ সালে ওয়ারী ক্লাবের হয়ে ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে খেলতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও বিজেএমসির মতো প্রতিষ্ঠিত দলে খেলেছেন।
১৯৭৮ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৮০ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপের মূল পর্বেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ইরানের বিপক্ষে ম্যাচেও মাঠে নামেন।
১৯৭৯ সালে বিজেএমসির প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যশোর জেলা দলের হয়ে ১৯৭৬ সালে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শেরেবাংলা কাপ জয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
জাতীয় হকি দলে প্রতিনিধিত্ব
ফুটবলের পাশাপাশি হকিতেও তাঁর সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্টের হকি সিরিজে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলেন।
ওয়ারী ক্লাব, সোনালী ব্যাংক ও সাধারণ বীমার হয়ে খেলেছেন। ১৯৮২ সালে যশোর জেলা দলের হয়ে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।
বিকেএসপিতে ৩১ বছরের গৌরবময় অধ্যায়
কাওসার আলীর জীবনের সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রে। ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে বিকেএসপিতে হকি কোচ হিসেবে দায়িত্ব শুরু করে দীর্ঘ ৩১ বছর সেখানে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে বিকেএসপির হকি বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে অবসরে যান।
তাঁর হাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসেছেন অসংখ্য হকি খেলোয়াড়। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন আমার হাতে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত প্রায় ১২০ জন খেলোয়াড় বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলেছেন। এদের মধ্যে তারকা রাসেল মাহমুদ জিমি ও রাসেল খান বাপ্পিসহ আরো ানেকে আছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোচিং সাফল্য
২০০৫ সালে তাঁর প্রশিক্ষণাধীন বিকেএসপি জুনিয়র হকি দল ভারতের নেহরু কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, আবাহনী, মোহামেডান ও আজাদ স্পোর্টিংয়ের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মিয়ানমার অনূর্ধ্ব-২১ জাতীয় হকি দলের কোচ ছিলেন। বাংলাদেশ যুব হকি দলের কোচ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করেছেন। ২০১৪ সালের সামার ইয়ুথ অলিম্পিকে বাংলাদেশের যুব হকি দলের যোগ্যতা অর্জনের পেছনে তাঁর প্রশিক্ষণ ও অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন এবং এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাওসার আলীর বিশেষত্ব হলো, তিনি শুধু নিজে জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরির একটি শক্তিশালী ভিত্তিও গড়ে দিয়েছেন।
খন্দকার রকিবুল ইসলাম:
জাতীয় ফুটবলের সাবেক সহ-অধিনায়ক, রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃতী ফুটবলার
খন্দকার রকিবুল ইসলাম বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সত্তর ও আশির দশকের অন্যতম পরিচিত ডিফেন্ডার। যশোরের এই কৃতী ফুটবলার জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং একপর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
জন্ম ও ফুটবলে পথচলা
১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি যশোরে জন্মগ্রহণ করেন খন্দকার রকিবুল ইসলাম। ফুটবলে তাঁর অবস্থান ছিল লেফট ব্যাক বা বাম পার্শ্বের রক্ষণভাগে।
১৯৭৩ সালে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগ ফুটবলে অভিষেক ঘটে তাঁর। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের দক্ষতা, রক্ষণভাগ সামলানোর ক্ষমতা ও মাঠের উপস্থিতির কারণে পরিচিতি লাভ করেন।
মোহামেডান ও আবাহনীতে সাফল্য
খন্দকার রকিবুল ইসলামের সাথে একান্ত কথাপোকথনে উঠে আসে, তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের শিরোপা জেতেন। ১৯৭৭ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে আগা খান গোল্ডকাপে মোহামেডানের অধিনায়কত্ব করেন।
১৯৭৮ সালে যোগ দেন দেশের আরেক ঐতিহ্যবাহী দল আবাহনী ক্রীড়াচক্রে। ১৯৭৯ সালের আগা খান গোল্ডকাপে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
পরবর্তী সময়ে বিজেএমসি ও রহমতগঞ্জের হয়েও খেলেছেন। ১৯৯০ সালে বিজেএমসির হয়ে খেলার মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে প্রতিনিধিত্ব
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে এএফসি যুব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। ১৯৭৬ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত কিংস কাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ১৯৭৮ সালের এশিয়ান গেমসের জন্য জাতীয় দলের পরিকল্পনায় ছিলেন। ১৯৭৯ সালে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।
১৯৮০ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার ২০১৬
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ফুটবলারদের তালিকায় ২০১৬ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর নাম রয়েছে। ২০২২ সালের ১১ মে তিনি এ পদক গ্রহন করেন। এটি তাঁর দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বলে দাবি করেন তিনি।
ফুটবল-পরবর্তী জীবন
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছেন খন্দকার রকিবুল ইসলাম। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উন্নয়ন কমিটির সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার খুঁজে বের করার কার্যক্রম এবং বাফুফে এলিট ফুটবল একাডেমির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
তাঁর জীবন থেকে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য শেখার বিষয় হলো দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, দলীয় দায়িত্ববোধ এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা একজন খেলোয়াড়কে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
নিজ জন্মস্থান যশোরের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরি এবং জেলার হারানো ক্রীড়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় পর্যায়ের দুই কৃতী ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব কাউসার আলী ও খন্দকার রকিবুল ইসলাম।
দীর্ঘদিনের ক্রীড়া অভিজ্ঞতা, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা নিজ জেলার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি এবং জাতীয় পর্যায়ে যশোরের খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে তাঁদের আগ্রহ রয়েছে। যশোর একসময় ফুটবল, হকিসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অধিকারী ছিল। সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে। নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ততা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
কাউসার আলী ও খন্দকার রকিবুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ দুই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব নিজ জন্মভূমির ক্রীড়াঙ্গনের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী হওয়া যশোরের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য আশাব্যঞ্জক। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হলে উপকৃত হতে পারে জেলার আগামী প্রন্মের ক্রীড়াবিদরা। জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার পর এবার জন্মভূমি যশোরের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করাই তাঁদের অন্যতম প্রত্যাশা।

About Magpie News

Check Also

মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলায় শাহজালাল রুমীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে …